Home জাতীয় ২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য

২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য

0
7
২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | BD Views Bangla

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলা এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে আনা জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর দেওয়া বক্তব্যে এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নোটিশটি উত্থাপন করেন।

২০৩০ সালে বিদ্যুতের চাহিদা ২৫ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।

এই বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

২০৩০ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, জলবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌর ও এগ্রিভোলটাইকসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে কর সুবিধা

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে কর সুবিধা দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও স্ট্রাকচারসহ প্রয়োজনীয় পণ্যে মাত্র ১ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র আমদানিকারকদেরও এ খাতে যুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের আগামী ছয় মাসের জন্য কর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন এবং নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, সরকার তাদের কাছ থেকে আকর্ষণীয় মূল্যে বিদ্যুৎ কিনবে বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

এ ছাড়া সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন জমিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন নীতিমালা ও বিধিমালা জারি করা হয়েছে।

রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াটের সৌর প্রকল্প

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় মানুষের আবেগকে সম্মান জানিয়ে রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্রকল্পের অ্যাশ পয়েন্টের জন্য নির্ধারিত জায়গায় ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনেও সৌরবিদ্যুৎ

সরকারি ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।

প্রায় ৬০ হাজার একর জমির তালিকা

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে তাদের পতিত জমি এবং আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরেও ব্যবহারের সম্ভাবনা কম—এমন জমির তালিকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সব মন্ত্রণালয় মিলে প্রায় ৬০ হাজার একর জমির তথ্য দিয়েছে। যাচাই-বাছাই করে এর মধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব জমি ইনভেস্ট বাংলাদেশের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার জমি দেবে এবং বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের ফলে একদিকে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তরুণ ও যুবসমাজের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরিতে সৌরবিদ্যুৎ খাতকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রুফটপ সোলারের জন্য আলাদা মানচিত্র নেই

সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান রুফটপ সোলারের জন্য আলাদা কোনো মানচিত্র প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চান। পাশাপাশি দেশের নদীগুলোর ওপর সৌর প্যানেল স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রুফটপ সোলারের জন্য আলাদা কোনো মানচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ এখনো নেই। তবে সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বড় সৌর প্রকল্পের ক্ষেত্রে পিপিপি পদ্ধতিতে সরকার জমি দেবে এবং বিনিয়োগকারীরা সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। জমি নির্বাচনের সময় বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

BD Views Bangla | সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here