Home জাতীয় বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ

বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ

0
3
বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় নিউজডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘আজ বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।’

মাহদী আমিন জানান, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।

নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।

বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।

বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় এ সংকট বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

ক্রোয়েশিয়া ও ইরানের সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথাও জানান মাহদী আমিন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ু ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়িয়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’

জাতিসংঘে বাংলায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি জানান, আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় বক্তব্য দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here