ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই বিমান ভূপাতিতের প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইটটির ককপিটে কো-পাইলটের হামলার পর বিমানটি ছিনতাই করে ইসরায়েলের দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইটটির ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড়কে কো-পাইলট হামলা করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট দ্রুত নিচে নেমে যায়। ককপিট থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করে এবং দেশটির আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস জানায়, বিমানটি যদি ইসরায়েলের দিকে এগিয়ে আসত এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসত, তাহলে সেটিকে ভূপাতিত করার প্রস্তুতি ছিল। এ ধরনের সম্ভাব্য ‘৯/১১-ধাঁচের’ হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলের একটি দীর্ঘদিনের জরুরি প্রক্রিয়া রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ফ্লাইটটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে সিবিএস জানিয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিলেন ইসরায়েলি। ক্যাপ্টেন আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে কয়েকজন যাত্রী ও ফ্লাইটকর্মী মিলে কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।
ঘটনার পর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এটিকে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই ও বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছেন। তবে হামলার উদ্দেশ্য ও এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। সিবিএসের পৃথক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা হিসেবে কো-পাইলট একাই এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনায় ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলট দুজনই আহত হন। তবে বিমানের অন্য যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র: CBS News, Reuters













