নিজস্ব প্রতিবেদক | BD Views Bangla
প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘তদবিরের ঠাঁই নাই’, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’, ‘২৪-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘কমিটি গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘তদবিরের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশন’ এবং ‘কোটা না মেধা—মেধা, মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ভাইভার নম্বর বাড়ানো নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি
বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, অতীতে লিখিত পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখার পরও রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সরকারের সমালোচনার কারণে অনেক প্রার্থী ভাইভায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ভাইভায় নম্বরের গুরুত্ব বাড়ানো হলে সরকারি চাকরির নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
‘বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ছিল অন্যতম দাবি’
আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে নোবিপ্রবি শিবিরের সেক্রেটারি আব্দুর রহমান বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ছিল জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি।
তার অভিযোগ, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জালিয়াতি ঠেকানোর পরিবর্তে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
‘ভাইভার মাধ্যমে সুযোগ তৈরির আশঙ্কা’
নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, যোগ্যতা যাচাই না করে পছন্দের ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া কিংবা দলীয়করণের উদ্দেশ্যে কোটাব্যবস্থার পরিবর্তে এখন ভাইভার মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
জালিয়াতি ঠেকাতে না পেরে ভাইভার নম্বর বাড়ানো সরকারের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিয়োগ বিধিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ
উল্লেখ্য, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর মাধ্যমে নিয়োগ বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়, যাতে তদবির, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
BD Views Bangla | সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ














