আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।
বুধবার WHO’র মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র দেন সায়মা ওয়াজেদ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তার পদত্যাগপত্র দেখেছে বলে জানিয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন সফরকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত করছে WHO। বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ।
চলতি বছরের ৩ জুলাই WHO-কে দেওয়া এক চিঠিতে তার আইনজীবীরা জানান, চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
চীন সফরের অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ
চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ দাবি করেন, ভ্রমণ ব্যয় ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। এ বিষয়টি তিনি WHO মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
জমির প্লট নিয়েও অভিযোগ
সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগপত্রে বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তার দাবি, WHO-তে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি ওই জমির অধিকারী হয়েছিলেন বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেন
২০২৩ সালের নভেম্বরে WHO’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্যদেশগুলোর ভোটে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। একই সময়ে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠায় WHO। বুধবার পদত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি ওই ছুটিতেই ছিলেন।
‘আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে’
WHO মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ লিখেছেন, তিনি তার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।
তবে তাকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, WHO নেতৃত্বের ওপর তার ‘আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে’।
বেতন ছাড়া ছুটিতে থাকার কারণে প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক পাননি বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। এতে তার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে এবং এই পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। WHO-ও তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
নতুন নির্বাচন হতে পারে জানুয়ারিতে
এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করছিল WHO।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর ওই পদের জন্য মনোনয়ন ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
WHO’র আঞ্চলিক পরিচালকেরা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে WHO’র নীতি বাস্তবায়ন তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত রয়েছে। সদস্যদেশগুলো প্রতি পাঁচ বছর পর আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচন করে।
সূত্র: রয়টার্স














