Home জাতীয় চট্টগ্রাম বন্দরে এক ব্যাংকের মাধ্যমে চার্জ পরিশোধের নির্দেশনা প্রত্যাহার

চট্টগ্রাম বন্দরে এক ব্যাংকের মাধ্যমে চার্জ পরিশোধের নির্দেশনা প্রত্যাহার

0
10

চট্টগ্রাম বন্দরে এক ব্যাংকের মাধ্যমে চার্জ পরিশোধের নির্দেশনা প্রত্যাহার

জাতীয় নিউজডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

প্রকাশের তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবহারকারীদের ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির মাধ্যমে বন্দর চার্জ পরিশোধের নির্দেশনা দিয়ে জারি করা সার্কুলার প্রত্যাহার করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আমদানি-রপ্তানিকারক ও কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে বুধবার বিকেলেই নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করে আগের পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে নতুন এই পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এতে ওইদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কিছু পণ্য খালাসের কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে জানান বন্দর ব্যবহারকারীরা।

এক ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট নিয়ে আপত্তি

বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, অনেক আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ইস্টার্ন ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ফলে নির্দিষ্ট একটি ব্যাংকের মাধ্যমে বন্দর চার্জ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হলে পণ্য খালাসে বিলম্ব হতে পারে। এতে ডেমারেজসহ অন্যান্য অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

আগে চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে বন্দর চার্জ পরিশোধের সুযোগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় কেন একটি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ব্যবহারকারীরা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বলেন, আমদানি-রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে। সবার একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকবে—এমনটা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি জানান, আগে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে জনতা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্টের সুবিধা ছিল। আকস্মিক পরিবর্তনে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও অন্যান্য বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

ডিজিটালাইজেশনে জোর বন্দর কর্তৃপক্ষের

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জাহাজের ১০০ শতাংশ বিল অনলাইনে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। কনটেইনার ও কনসাইনি বিল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে প্রস্তুত ও সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির একটি বুথ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ছুটির দিনসহ ২৪ ঘণ্টা অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পুরোপুরি অনলাইন ই-গেট পাস, গেট-ইন ও গেট-আউট কার্যক্রম, সময়-স্লট ব্যবস্থাপনা, কার্ট টিকিট, ই-গেট চালান এবং জাহাজের ই-এনওসি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেমেন্ট না হলে বন্দর চার্জের জন্য অটো-পুল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট ও নিলামের পণ্য সরবরাহের কার্যক্রম টিওএসের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিলামের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এপিআইয়ের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমসের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

টিওএস নিয়ে ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, টিওএস চালুর পর থেকে এটি সব ক্ষেত্রে ঠিকমতো কাজ করছে না।

তার দাবি, কোথাও পর্যাপ্ত জনবল নেই, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এসব ঘাটতির কারণে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে এবং আমদানি-রপ্তানিকারক ও কাস্টমস এজেন্টরা সমস্যায় পড়ছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে পণ্য খালাসের কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করা সম্ভব। তবে পেমেন্ট ব্যবস্থা এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে ব্যবসায়ীরা নতুন করে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই নিজেদের বিদ্যমান ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বন্দর চার্জ পরিশোধ করতে পারেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বন্দরকে পুরোপুরি কাগজবিহীন ও স্মার্ট বন্দরে রূপান্তর করা। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পর্যাপ্ত জনবল এবং ব্যবহারকারীবান্ধব পেমেন্ট ব্যবস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: সংশ্লিষ্ট বন্দর ব্যবহারকারী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here