Home আন্তর্জাতিক ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিল মার্কিন সেনারা, নতুন যুগের সূচনা

ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিল মার্কিন সেনারা, নতুন যুগের সূচনা

0
4

ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিল মার্কিন সেনারা, নতুন যুগের সূচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সমসাময়িক

প্রকাশের তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সেনাদের। মঙ্গলবার দেশটিতে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়েন। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।

ইরাক সরকার এই ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সরকার চার দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে।

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষের দাবি, এখন দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব নিজেদের বাহিনীর হাতে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে অনেকে ইরাকের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

ইরাকের নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলির মতে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে ইরাকে ইরানের কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন নেতা মনে করছেন, নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।

২০০৩ সালে শুরু হয়েছিল মার্কিন সামরিক অভিযান

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হয়। ওই অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০১১ সালে মার্কিন সেনাদের একটি বড় অংশ ইরাক ছাড়লেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আবারও সেনা মোতায়েন করা হয়।

২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে ইরাকের সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নিয়ে সমঝোতা হয়। সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এই প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তবে সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা, দৈনিক ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here