দেশভাগের পর প্রথমবার আসাম থেকে বাংলাদেশে সরাসরি পণ্যবাহী নৌযান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ৬ অক্টোবর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ৬ অক্টোবর ২০২৬
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ভারতের আসাম থেকে সরাসরি জলপথে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী বাণিজ্যিক চালান পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আসামের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের একটি বার্জ ঢাকার পানগাঁও অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও নৌপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বগিবিল থেকে বার্জটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা উদ্বোধন করেন। এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বার্জটিকে ‘কুশল কুনওয়ার’ নামের একটি টাগবোট টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
চালানটি আসামের নামরূপে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের উৎপাদিত মিথানল বহন করছে। এটি ভারতের ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-২ বা ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট ব্যবহার করে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ধলেশ্বরী হয়ে পানগাঁও বন্দরে পৌঁছাবে।
ডিব্রুগড় থেকে পানগাঁও পর্যন্ত চালানটিকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিতে হবে।
সর্বানন্দ সোনোয়াল এ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বহুমুখী যোগাযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এ বাণিজ্য সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, উনিশ শতকে ডিব্রুগড় ছিল পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর। ১৮৫৬ সাল থেকে কলকাতা ও ডিব্রুগড়ের মধ্যে নিয়মিত স্টিমার চলাচলের মাধ্যমে চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহন করা হতো।
তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নদীর গতিপথ ও তলদেশের পরিবর্তনের কারণে এ বাণিজ্যিক যোগাযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৫৪ সালে পণ্য বুকিং বন্ধ হওয়ার পর ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ডিব্রুগড় নৌঘাট আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় সাত দশক পর বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এ নৌপথের পুনরায় যাত্রা শুরু হলো।














