Home সর্বশেষ সংবাদ উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশের পাওনা প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা, পরিশোধ হয়নি তিন...

উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশের পাওনা প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা, পরিশোধ হয়নি তিন দশকেও

0
10

উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশের পাওনা প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা, পরিশোধ হয়নি তিন দশকেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

উত্তর কোরিয়ার কাছে দীর্ঘদিন ধরে পাওনা রয়েছে বাংলাদেশের। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য নেওয়ার পরও সেই অর্থ পরিশোধ করেনি দেশটি। সুদসহ ২০১৪ সালেই পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১১ দশমিক ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হারে এর মূল্য আনুমানিক ১৩৯ কোটি টাকা।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের কাছে এই অর্থ পরিশোধ করেনি। পাওনা আদায়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি।

বার্টার চুক্তির আওতায় পণ্য নিয়েছিল উত্তর কোরিয়া

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম বার্টার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে বার্টার-৫ চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন পণ্য নেয়। তবে এসব পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হয়নি।

পরবর্তীতে বার্টার-৫-এর বকেয়া অর্থ বার্টার-৬ চুক্তির আওতায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বার্টার-৬ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ১৯৯৫ সালের ৩১ মার্চ কোনো লেনদেন ছাড়াই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়।

বাংলাদেশ থেকে উত্তর কোরিয়া যেসব পণ্য নিয়েছিল, তার মধ্যে ছিল চাল, সিমেন্ট, চা, পাট ও পাটজাত পণ্য, ইউরিয়া সার, পশুর চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, সাবান, ডিটারজেন্ট, টয়লেট্রিজ ও গ্লিসারিন।

পাওনা স্বীকার করেও পরিশোধ করেনি

সোনালী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার ফরেন ট্রেড ব্যাংক ২০১২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাবের ভিত্তিতে প্রায় ১০ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার পাওনা থাকার বিষয়টি একটি SWIFT বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছিল।

তবে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। ২০১৪ সালের মধ্যে সুদসহ পাওনার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার। আন্তঃব্যাংক চুক্তিতে তিন মাস মেয়াদি মার্কিন ডলার LIBOR হারে সুদ আরোপের বিধানও ছিল।

কূটনৈতিক যোগাযোগেও মেলেনি সাড়া

পাওনা আদায়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চীনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যিক পরামর্শদাতাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়। এরপর বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওনা পরিশোধের অনুরোধ জানায়।

কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস, সরকার কিংবা দেশটির ফরেন ট্রেড ব্যাংকের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোনালী ব্যাংক পরে পাওনা আদায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (FID) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানায়।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে ১১.৬২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পাওনার তথ্য পাওয়া গেলেও এর পরবর্তী হালনাগাদ মোট পাওনার পরিমাণ নিশ্চিতভাবে প্রকাশিত হয়নি। ফলে ১৩৯ কোটি টাকা বর্তমান বিনিময় হারে আনুমানিক রূপান্তর, হালনাগাদ সরকারি হিসাব নয়।

সূত্র: The Business Standard, Sonali Bank ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত তথ্য।

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here