হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযানে সৌদির সমর্থন চাইলেন নেতানিয়াহু, আপত্তি যুবরাজের
নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে সৌদি আরবের সমর্থন চেয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এতে আপত্তি জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
প্রতিবেদনটিতে উদ্ধৃত একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সৌদি জনগণের মধ্যে সম্ভাব্য তীব্র প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ইসরায়েলের সামরিক অংশগ্রহণে আপত্তি জানিয়েছেন যুবরাজ। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব, ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্রের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ তৈরি করা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে তৎপরতা চালিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের কাঠামোও আলোচনায় এসেছে।
তবে সৌদি আরবের ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে দেশটি সম্মত নয়।
লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব ঘিরে কৌশলগত গুরুত্ব
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক তৎপরতা লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তাকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়।
এই নৌপথে হুথিদের হামলা এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু স্থানীয় বা আঞ্চলিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্বার্থও।
সৌদি আরবে হামলা ও নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে হুথিরা। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহত হওয়ার খবরও উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সৌদি আরবের প্রতি সমবেদনা জানান নেতানিয়াহু। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশের পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
তবে হামলার স্থান, হতাহতের সংখ্যা এবং ঘটনার জন্য দায়ী পক্ষ সম্পর্কে প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সামনে কী হতে পারে?
সৌদি আরবের সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা মোকাবিলা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন রয়েছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং সৌদি জনগণের মনোভাব দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
সূত্র: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে সরবরাহ করা প্রতিবেদন।
সম্পাদনা নোট: প্রকাশের আগে সামরিক অভিযান, বিমানবন্দরে হামলা এবং হতাহতের সংখ্যাসংক্রান্ত তথ্য নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
#SaudiArabia #Israel #Yemen #Houthi #MiddleEast









