Home আন্তর্জাতিক মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা ইলন মাস্কের, শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয়...

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা ইলন মাস্কের, শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও হার সমর্থিত প্রার্থীদের

0
3
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা ইলন মাস্কের, শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও হার সমর্থিত প্রার্থীদের

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা ইলন মাস্কের, শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও হার সমর্থিত প্রার্থীদের

রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয়; টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অনিশ্চয়তায় মাস্কের ডেটা সেন্টার পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক । বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও রিপাবলিকানদের অন্যতম শীর্ষ অর্থদাতা ইলন মাস্ক। নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রায় ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি তিনি। তাঁর সমর্থিত বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী বিশ্লেষণেও মাস্কের বিপুল অর্থ ব্যয়ের তুলনায় নির্বাচনী সাফল্য সীমিত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

নির্বাচনে প্রায় ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয়

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন মাস্ক। এর মধ্যে টেক্সাসের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক তৎপরতায় ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি ডলারের বেশি।

নির্বাচনে তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন এবং ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে বিবেক রামাস্বামী পরাজিত হয়েছেন। টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো এবং ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাক্টন জয়ী হয়েছেন।

এদিকে, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অবস্থানেও বড় পরিবর্তন এসেছে।

টেক্সাসে ডেটা সেন্টার পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

মাস্কের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য টেক্সাস গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। রাজ্যটিতে তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পাশাপাশি বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোহোসার জয় এসব পরিকল্পনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় হিনোহোসা ডেটা সেন্টারের বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা ও এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

এ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক লেখেন, ‘মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনকে এখন বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।’

এর কিছুক্ষণ পর নির্বাচনে হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করে তিনি লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, আমার নির্বাচন-হস্তক্ষেপকারী স্পেস লেজারগুলো এবার কাজ করেনি।’

ডেটা সেন্টার নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

গত কয়েক বছরে টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিদায়ী গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বিনিয়োগের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছিলেন।

তবে দেশজুড়ে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় জনগণের ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। টেক্সাসেও এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তদন্তভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হান্টারব্রুক মিডিয়ার প্রকাশক স্যাম কোপেলম্যানের মতে, এত দিন টেক্সাসকে ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য তুলনামূলক অনুকূল অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু এবারের নির্বাচনের ফল সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ, বাড়তে পারে জবাবদিহির চাপ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে মাস্কের ব্যবসায়িক ও সরকারি কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের কয়েকজন নেতা প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের কংগ্রেসে হাজির করে তাঁদের কার্যক্রম, সরকারি চুক্তি এবং নীতিনির্ধারণে প্রভাব নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগ কাসার এক বিবৃতিতে বলেন, ভোটাররা রিপাবলিকানদের প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তাঁদের একটি অংশ এআই বিলিয়নিয়ারদের অর্থের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের উচিত এসব অর্থদাতার কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা।

নির্বাচনের ফলাফল তাই শুধু রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অবস্থানেই প্রভাব ফেলেনি; যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত, বড় অর্থদাতাদের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

সূত্র: পলিটিকো, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান ও ওয়্যার্ড।

বিডি ভিউজ বাংলা | সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here