Home রাজনীতি স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূলে শঙ্কা, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূলে শঙ্কা, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

0
9
স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূলে শঙ্কা, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

রাজনীতি ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র থেকে যোগ্য, সৎ, ত্যাগী ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দলের নেতাকর্মীরা।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার বাইরে গিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে প্রার্থী করার চেষ্টা করতে পারেন। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতে নিজেদের বলয় শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থের লেনদেনের আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।

কেন্দ্রের নির্দেশনা অমান্য হলে কঠোর ব্যবস্থা

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। অতীতে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এবার সে সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবার প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশনা ভিন্নভাবে দেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশনা অমান্য হলে দল কঠোর অবস্থানে যাবে।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্র থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের নির্দেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

২৯ আগস্ট বগুড়ার জেলা, থানা ও সিটি করপোরেশনের বিএনপি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এর আগে ২০ আগস্ট পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নেতাদের সঙ্গে এবং ১৩ আগস্ট রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলা ও মহানগরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। ২০ জুলাই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন তিনি।

এসব বৈঠকে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে প্রতিটি এলাকায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রামে এক সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদেরই প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।

বছরের শেষ দিকে স্থানীয় নির্বাচন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) বছরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় সরকারের আওতায় রয়েছে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, চলতি মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ এ বছর শেষ হচ্ছে, সেগুলোর নির্বাচন এ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির বিভিন্ন এলাকায় একই পদে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং দলীয় সমর্থন পেতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন অবশ্য মনে করেন, সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও প্রার্থী বাছাইয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অন্তত পাঁচজন নেতা সক্রিয় রয়েছেন। কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভাতেও মেয়র পদে বিএনপির একাধিক নেতা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে সেখানে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

অন্তর্কোন্দলে বাড়ছে উদ্বেগ

স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় সমর্থন ও আধিপত্য ধরে রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধও বাড়ছে; কোথাও কোথাও তা সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন আহত হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ১০৫টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৯৩৩ জন আহত এবং ২০ জন নিহত হয়েছেন।

ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা সামাল দিয়ে ঐকমত্য তৈরি করা এবং তৃণমূলের ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করাই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here