ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনসহ ১৩ প্রকল্পে ৬৪৭ কোটি ডলার ঋণ চাইছে সরকার
জাতীয় নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা, গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল লাইন-২ নির্মাণ এবং ৩০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনাসহ ১৩টি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ৬৪৭ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণ চাইছে সরকার।
প্রকল্পগুলোর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৯ হাজার ৫৮৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৈদেশিক ঋণ নিশ্চিত করা এবং কোন প্রকল্পে কোন উন্নয়ন সহযোগী অর্থায়ন করতে পারে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার বৈদেশিক সহায়তা অনুসন্ধান কমিটির সভায় প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে।
ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হবে ছয় লেন
প্রস্তাবিত বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ২৩২ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনের নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করা।
প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৭১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৮০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ১৬ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনায় মহাসড়কের দুই পাশে স্থানীয় ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস লেন, নির্ধারিত প্রবেশ ও বের হওয়ার পয়েন্ট, ইন্টারচেঞ্জ, ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের কথা রয়েছে। শহরাঞ্চলে যানজট কমাতে কিছু অংশ উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পটিতে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে এডিবির নেতৃত্বে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) অথবা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সঙ্গে যৌথ অর্থায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কেও চার লেন
ভারতের তৃতীয় ঋণচুক্তি (এলওসি-৩) থেকে বাদ পড়া কুমিল্লা (ময়নামতি)-ব্রাহ্মণবাড়িয়া (ধরখার) জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য নতুন উন্নয়ন সহযোগী খুঁজছে সরকার।
প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৭ হাজার ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ৩৭৮ কোটি ৬৭ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ২ হাজার ৮১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
এডিবি ইতোমধ্যে প্রকল্পটিতে প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল লাইন-২
গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন-২ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আওতায় নয়াবাজার থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পটিতে ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও অর্থায়নের প্রয়োজন হওয়ায় অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকেও যৌথ অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কেনা হবে ৩০০ বৈদ্যুতিক বাস
ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে বিআরটিসির বহরে বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এ জন্য ২ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ৩০০টি একতলা বৈদ্যুতিক বাস কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭০৩ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ থেকে প্রায় ২ হাজার ১০ কোটি টাকা অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে।
সম্ভাব্য অর্থায়নকারী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ ও নগর উন্নয়নেও বিদেশি ঋণ
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পটুয়াখালীর পায়রা ও মুন্সিগঞ্জে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুরান ঢাকা পুনরুজ্জীবন, রায়েরবাজার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নির্বাচিত সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নগর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও বৈদেশিক অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে।
বৈদেশিক সহায়তা অনুসন্ধান কমিটি প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্য উন্নয়ন সহযোগী ও অর্থায়নের বিকল্প পর্যালোচনা করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।














