মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রে, ঘিরে তীব্র বিতর্ক
আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ঘিরে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসাধারণকে সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা প্রয়োজন।
তবে এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের একাংশ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর সতর্ক করেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের শামিল হতে পারে এবং তা মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলতে পারে।
২০০৯ সালের ফোর্ট হুড হামলায় দণ্ডিত নিদাল হাসান
নিদাল হাসান ছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ চিকিৎসক। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডের একটি জনাকীর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে ১৩ জন সেনাসদস্যকে হত্যার দায়ে তিনি দণ্ডিত হন। ওই হামলায় আরও অনেকে আহত হন।
২০১৩ সালে সামরিক আদালতে বিচার চলাকালে হাসান তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আপিলের প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
হাসানের আইনজীবী জন মিলসের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে আপিলের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফেডারেল আদালতে দণ্ডাদেশ ও সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত হতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়।
মৃত্যুদণ্ডের সম্প্রচার নিয়ে মানবাধিকার বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। সাংবাদিক, দণ্ডিত ব্যক্তির স্বজন এবং অনুমোদিত সাক্ষীরা এ প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে পারেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা দেশটিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সমালোচকদের মতে, এ ধরনের সম্প্রচার মানুষের মর্যাদা, মানবাধিকার এবং তরুণ দর্শকদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের একাংশের মতে, এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণের জানার সুযোগ থাকা উচিত।
নিদাল হাসানের মামলায় আপিলের প্রক্রিয়া এবং সরাসরি সম্প্রচারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: বিবিসি













