সুদানে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত
পশ্চিম কর্দোফান, ব্লু নাইল ও দক্ষিণ দারফুরে প্রাণহানি; বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ।
প্রতিবেদক: BD Views Bangla News Desk
প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২৬
সুদানে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসাকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রাজধানী খার্তুমসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এসব হামলায় নারী, শিশু ও বাস্তুচ্যুত মানুষ হতাহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
আল জাজিরার ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ১৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই দিনে খার্তুমে ড্রোন হামলায় তিন শিশু নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লয়ার্স।
আল-দিবাবে হামলায় বহু প্রাণহানি
সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি ঘটে পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে। বাজার শেষে বাড়ি ফেরার যানবাহনের অপেক্ষায় একটি পরিবহনকেন্দ্রে জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানে ড্রোন হামলায় ৮০ জন নিহত হন বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে জানানো হয়েছে।
হামলায় আহত ৪৭ জনকে কাছের আল-মুজলিয়াদ শহরে নেওয়া হলে তাঁদের মধ্যে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয় বলে একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
এই হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং ইমার্জেন্সি লয়ার্স।
ব্লু নাইল ও দক্ষিণ দারফুরেও হামলা
দেশটির ব্লু নাইল অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি সমাবেশে আরএসএফের ড্রোন হামলায় ৪১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইমার্জেন্সি লয়ার্স।
এদিকে দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে আরেকটি ড্রোন হামলায় সাতজন আরএসএফ কর্মকর্তা ও অন্যদেরসহ মোট ১৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা ও আরএসএফ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুদানের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ব্যবহার বাড়ায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বেড়েছে। সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর হামলার মধ্যে সাধারণ মানুষ ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক সুদানজুড়ে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এসব হামলায় শিশুদের মৃত্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
গৃহযুদ্ধে ভয়াবহ মানবিক সংকট
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে ক্ষমতা ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ থেকে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ACLED-এর তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর আশঙ্কা।
জাতিসংঘের হিসাবে, সংঘাতের কারণে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষের জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন, আর শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিও বাড়ছে।
এদিকে সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতি এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া আপত্তি জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা — ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশক: BD Views Bangla
ওয়েবসাইট: www.bdviewsbangla.net















