Home আন্তর্জাতিক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভূমিধস জয়, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভূমিধস জয়, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল

0
4
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভূমিধস জয়, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভূমিধস জয়, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল

বিডি ভিউজ বাংলা | আন্তর্জাতিক

প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজিত করে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও প্রশাসনিক নীতিনির্ধারণে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া, ওহাইও, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনাসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন নিজেদের করে নিয়েছে দলটি।

নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্য

১০০ সদস্যের মার্কিন সিনেটে এবারের নির্বাচনে ৩৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত ও দুটি বিশেষ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

কানসাসে রিপাবলিকান প্রার্থীকে পরাজিত করে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টন। টেক্সাসে কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন জেমস তালারিকো।

ওহাইওতে রিপাবলিকান জন হাস্টেডকে পরাজিত করে সিনেটে ফিরেছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন। নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়েছেন সাবেক গভর্নর রয় কুপার।

এ ছাড়া আইওয়া ও মেইনসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ জয় এসেছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও মনোনয়ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত, শুনানি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগও তৈরি হবে।

টেক্সাসে গভর্নর পদেও ডেমোক্র্যাটদের জয়

কংগ্রেসের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নর নির্বাচনেও সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা। এ জয়ের মধ্য দিয়ে তিন দশকের বেশি সময় পর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নরের দায়িত্বে ফিরছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

ওহাইয়োতেও গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন। জর্জিয়ায় জয় পেয়েছেন কেইশা ল্যান্স বটমস। তাঁর বিজয় কার্যকর হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর।

অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের এসব ফলাফল মার্কিন রাজনীতিতে দল দুটির ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রতিনিধি পরিষদে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা

প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নিম্নকক্ষের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস স্পিকার নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে স্পিকার নির্বাচনের জন্য নতুন প্রতিনিধি পরিষদের আনুষ্ঠানিক ভোট প্রয়োজন।

নতুন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণের ফলে বাজেট, সরকারি ব্যয়, অভিবাসন, বাণিজ্যনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধ বাড়তে পারে।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনের প্রভাব

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের কথা স্বীকার করেছেন। তবে ফলাফলকে নিজের প্রেসিডেন্সির বিরুদ্ধে সরাসরি রায় হিসেবে দেখার বিষয়ে তিনি ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে স্থানীয় ইস্যু ও প্রার্থীদের অবস্থানও ভোটের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আইন প্রণয়ন ও বাজেট অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত, শুনানি ও জবাবদিহি বাড়াতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। প্রেসিডেন্টের নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নেও কংগ্রেসের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে হোয়াইট হাউস।

বিশেষ করে সরকারি ব্যয়, করনীতি, অভিবাসন, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দলের মধ্যে দর-কষাকষি বাড়তে পারে।

২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার এই পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), CBS News, দ্য গার্ডিয়ান এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here