যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি, দুর্গে জয় ডেমোক্র্যাটদের
নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ৪ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির দীর্ঘদিনের নির্বাচনী দুর্গগুলোতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই চলে গেছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের হাতে।
টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো রিপাবলিকান-প্রধান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় এবারের নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ফল এসেছে টেক্সাস থেকে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যটিতে সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো।
রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে টালারিকো টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর সিনেটে প্রথম ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এ জয়কে অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কানসাসেও ইতিহাস গড়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালকে হারিয়ে সিনেট আসন জিতেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। প্রায় এক শতাব্দী পর অঙ্গরাজ্যটিতে সিনেটে জয় পেল দলটি।
সাউথ ক্যারোলাইনাতেও রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে ছেদ পড়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজের জয়ের মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক পর সিনেটে দলটির প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফলে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল। ফলে প্রেসিডেন্টের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে রিপাবলিকান প্রশাসনকে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।















