Home আন্তর্জাতিক যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের জয়জয়কার, জয়ী ও এগিয়ে অন্তত ৩৭ জন

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের জয়জয়কার, জয়ী ও এগিয়ে অন্তত ৩৭ জন

0
4
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের জয়জয়কার, জয়ী ও এগিয়ে অন্তত ৩৭ জন

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের জয়জয়কার, জয়ী ও এগিয়ে অন্তত ৩৭ জন

কংগ্রেস থেকে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা—বিভিন্ন পর্যায়ে মুসলিম প্রতিনিধিত্বে নতুন অধ্যায়

আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক । বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অন্তত ৩৭ জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন অথবা ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছেন। কংগ্রেস থেকে শুরু করে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পদে তাঁদের এই সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের চিত্র তুলে ধরেছে।

নির্বাচনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কংগ্রেসে আটজন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন বা এগিয়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন সিনেট এবং সাতজন প্রতিনিধি পরিষদের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ ছাড়া অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় ২৭ জন এবং বিচার বিভাগ ও কাউন্টি পর্যায়ের দুটি পদে মুসলিম প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বা এগিয়ে রয়েছেন।

সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার ইতিহাস

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য এসেছে মিশিগান থেকে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

৪২ বছর বয়সী আল-সাইয়েদ পেশায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। এর আগে তিনি মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাব্যয়ের চাপ কমানো, করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরাইলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল।

নির্বাচনী প্রচারে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা তাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন। আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। ডেমোক্র্যাটদের একাংশ এসব বক্তব্যকে ইসলামবিদ্বেষী রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে সমালোচনা করেন।

প্রতিনিধি পরিষদেও মুসলিম প্রার্থীদের জয়

প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও মুসলিম প্রার্থীরা সাফল্য পেয়েছেন। মিনেসোটা থেকে ইলহান ওমর, মিশিগান থেকে রাশিদা তালিব, ইন্ডিয়ানা থেকে আন্দ্রে কারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লতিফা সিমন নিজেদের আসনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন আদম হামাওয়ি। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হতে যাচ্ছেন। পেশায় চিকিৎসক হামাওয়ি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতেও চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইয়াতকে পরাজিত করে তিনি আলোচনায় আসেন। তাঁর এই জয় কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম লাতিনা মুসলিম নারী হিসেবে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। এর আগে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে প্রবেশ করেছিলেন।

অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় মুসলিমদের সাফল্য

অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায়ও মুসলিম প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য।

মিশিগানে আব্বাস আলাউয়েহ, আলাবাস ফারহাত ও জালাল আবদুল্লাহ নিজ নিজ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন বা এগিয়ে ছিলেন। ওহাইওতে জয় পেয়েছেন মুনিরা আবদুল্লাহি ও ইসমাইল মোহাম্মদ।

ইলিনয়ে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ডেমোক্র্যাটদের ফিরিয়ে দিয়েছেন নাবিলা সৈয়দ। ২৬তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী ডার্বি হিলসকে পরাজিত করেছেন তিনি। অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যটির প্রতিনিধি পরিষদে নিজের আসন ধরে রেখেছেন আবদেলনাসের রশিদ।

মিনেসোটায় জয় পেয়েছেন ওমর ফাতেহ ও জয়নাব মোহাম্মদ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোহামুদ নুর ও সামাকাব হুসেইন।

ওরেগনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন স্টেট সিনেটর কায়সে জামা। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ৪৮তম ডিস্ট্রিক্টে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন ওসমান সালাহউদ্দিন।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও মুসলিম প্রার্থীদের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও মুসলিম প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।

নিউইয়র্কের ১২তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আবের কাওয়াস। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন রবার্ট জ্যাকসন।

কানেকটিকাটে স্টেট সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন মরিয়ম খান ও সৌদ আনোয়ার। ডেলাওয়ারে মদিনা উইলসন-অ্যান্টন এবং পেনসিলভানিয়ায় তারিক খান নিজেদের আইনসভায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তবে কানেকটিকাটের চতুর্থ সিনেট ডিস্ট্রিক্টে এমডি রহমানের ফলাফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।

দক্ষিণাঞ্চলেও মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি

দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতেও মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য দেখা গেছে।

জর্জিয়ার সপ্তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন রুয়া রোমান। একই অঙ্গরাজ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রহমান। রিপাবলিকানদের দখলে চলে যাওয়া নিজের পুরোনো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন ফারুক মুগল।

টেক্সাসে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সালমান ভোজানি ও সুলেমান লালানি। হ্যারিস কাউন্টির বিচারক পদে জয় পেয়েছেন লেটিশিয়া প্লামার। নর্থ ক্যারোলাইনায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন স্টেট সিনেটর মুজতবা মোহাম্মদ।

অন্যদিকে কলোরাডোর ২৯তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ইমান জোদেহ। টেনেসিতে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ইউসুফ হাকিম।

সব প্রার্থী অবশ্য জয় পাননি

এবারের নির্বাচনে সব মুসলিম প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। অ্যারিজোনার চতুর্থ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জুহদি জাসের পরাজিত হয়েছেন। ফ্লোরিডার ১০৩তম হাউস ডিস্ট্রিক্টে হেরেছেন ইমতিয়াজ মোহাম্মদ।

মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি কমিশনার নির্বাচনে শ্যারন এল-আমিনও বর্তমান কমিশনার আইরিন ফার্নান্দোর চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এ ছাড়া কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ভোট গণনা চলমান থাকায় ফলাফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বাড়ছে মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ

মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়টি এবারের নির্বাচনে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে ১৬০ জনের বেশি মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল ১৪৫।

নির্বাচনী প্রচারে নাগরিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের দাবি কয়েকজন মুসলিম প্রার্থীর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে কয়েকটি আসনে ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা বাকি থাকায় জয়ী ও এগিয়ে থাকা প্রার্থীর সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, রিলিজিয়ন নিউজ সার্ভিস, সিবিএস নিউজ ও মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভি।

বিডি ভিউজ বাংলা | দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here