Home সর্বশেষ সংবাদ এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ের দাবি ঘিরে নতুন প্রশ্ন, কাবিননামা নিয়ে ধোঁয়াশা

এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ের দাবি ঘিরে নতুন প্রশ্ন, কাবিননামা নিয়ে ধোঁয়াশা

0
3
এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ের দাবি ঘিরে নতুন প্রশ্ন, কাবিননামা নিয়ে ধোঁয়াশা

স্টাফ রিপোর্টার | বিডি ভিউজ বাংলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে মরিয়ম খাতুনকে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তবে প্রকাশ্যে আসা কাবিননামা এবং সংশ্লিষ্ট কাজীর বক্তব্যে বিয়ের বৈধতা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওর পর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মরিয়ম খাতুন এবং কনের বাবা মাসুম বিল্লাহ পৃথক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

তবে কাবিননামায় উল্লেখিত শ্যামনগরের ১২ নম্বর গাবুরা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা বি এ এম বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, বিয়ে কোথায় বা কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে তার কোনো প্রত্যক্ষ ধারণা নেই।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে ফোনে তাকে জানানো হয় যে বিয়ে হয়েছে এবং সেটি নিবন্ধন করতে হবে। পরে মঙ্গলবার সকালে কনে ও তার অভিভাবক এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। বিয়ের তারিখ ১৭ জুন উল্লেখ করার নির্দেশও ফোনে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

একপর্যায়ে কাজী বলেন, “আমাদের বিপদে ফেলা হয়েছে, আমি যাতে বিপদে না পড়ি”—এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে কাবিননামায় মরিয়ম খাতুনের জন্মতারিখ ২২ মে ২০০৮ উল্লেখ থাকলেও একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহ করা জীবনবৃত্তান্তে দেখা যায়, ২২ জুন—অর্থাৎ দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পর—সেই বায়োডাটায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম “জোর সুপারিশ করছি” লিখে স্বাক্ষর করেছেন। একই বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা “অবিবাহিত” উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে এমপির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তি এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে প্রশ্ন করছেন। ভিডিওতে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, “জামায়াত হয়ে এই কাজ কীভাবে করলেন? অন্যায় করেছেন কি না?” জবাবে তিনি মাথা নেড়ে বলেন, “বিশ্বাস করেন, আজই প্রথম।” তবে ভিডিওটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here