Home জাতীয় জিয়াউর রহমান হত্যা: একই হত্যাকাণ্ড, দুই বিচারিক পথ—মোজাফফর গ্রেপ্তারে নতুন আলোচনা

জিয়াউর রহমান হত্যা: একই হত্যাকাণ্ড, দুই বিচারিক পথ—মোজাফফর গ্রেপ্তারে নতুন আলোচনা

0
4
জিয়াউর রহমান হত্যা: একই হত্যাকাণ্ড, দুই বিচারিক পথ—মোজাফফর গ্রেপ্তারে নতুন আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার | বিডি ভিউজ বাংলা

রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে একই হত্যাকাণ্ডের দুটি ভিন্ন বিচারিক পরিণতি। একদিকে সামরিক আদালতে দ্রুত বিচার করে ১৩ সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, অন্যদিকে বেসামরিক হত্যা মামলাটি দীর্ঘ ২০ বছর তদন্তের পর অভিযোগপত্র ছাড়াই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী বিদ্রোহে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিচার শুরু করে। একই সময়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ফৌজদারি আইনে একটি হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়। ওই মামলার ছয় নম্বর আসামি ছিলেন সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন।

সামরিক আদালতের বিচার দ্রুত শেষ হলেও বেসামরিক মামলার তদন্ত বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১৯৮১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১৭৩ দফা সময় নিয়েও অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারেনি। পরে ২০০১ সালের ২৪ অক্টোবর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে মামলার কার্যক্রমের ইতি টানা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ১৬ জুন অনুষ্ঠিত একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় (আইসিসি) সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেনাবাহিনী তদন্তের দায়িত্ব নিলে পুলিশের আলাদা তদন্ত চালানোর প্রয়োজন হবে না। পরে সেনাবাহিনী কোর্ট মার্শালের বিচার শুরু করায় বেসামরিক তদন্ত কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।

বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মামলার নথি উদ্ধার ও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে বেসামরিক মামলায় নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা হবে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক জিজ্ঞাসাবাদে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন হত্যাকাণ্ডের আগে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব তথ্য ভবিষ্যৎ তদন্তে সহায়ক হতে পারে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, ফরেনসিক আলামত, বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত। ফলে মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তারের পর মামলাটির বেসামরিক বিচারিক দিক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তথ্যসূত্র: আমার দেশ, মামলার নথি, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির বক্তব্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here