নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আলোচিত ও বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা পুরোপুরি বিলুপ্ত করে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনও সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
১৮(ক) ধারা কেন বাতিল
পাস হওয়া সংশোধনী অনুযায়ী, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা সম্পূর্ণভাবে রহিত হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সংকটাপন্ন তফশিলি ব্যাংক পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট নিরসন এবং ব্যাংক অবসায়ন না করে সরকারি অর্থের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই বাজারভিত্তিক কাঠামো হিসেবে ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল।
তবে ধারাটির অধীনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যেসব কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল, আইন কার্যকর হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি, শেয়ারহোল্ডার বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তা পূরণ করতে পারেননি। ফলে ধারাটির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত না হওয়ায় এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী ছিল ১৮(ক) ধারায়
নথি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত মূল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশে ১৮(ক) ধারা ছিল না। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের সময় ধারাটি যুক্ত করা হয়।
এই ধারার অধীনে কোনো ব্যাংককে রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পূর্ববর্তী শেয়ারহোল্ডার অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ওই ব্যাংকের সম্পদ, দায় ও শেয়ার পুনর্গ্রহণের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেত।
আর্থিক খাতে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক
আইনটি পাসের পর থেকেই ১৮(ক) ধারা নিয়ে আর্থিক খাতে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়।
বিশেষ করে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর বিতর্কিত সাবেক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের পুনরায় মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগ দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে ধারাটির শর্ত পূরণকারী কোনো যোগ্য বিনিয়োগকারী না পাওয়া এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকার শেষ পর্যন্ত ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা পুরোপুরি বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেয়।














