নিজস্ব প্রতিবেদক।বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার
সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও কমিশন গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘ আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি ও অর্থ লুণ্ঠনের ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান পদক্ষেপ কেন দেখা যাচ্ছে না।
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একের পর এক অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
দুদকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বর্তমান কার্যক্রমেরও কঠোর সমালোচনা করেন এনসিপির এই মুখপাত্র।
তিনি দাবি করেন, দুদকের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এখনো করা হয়নি। একই সঙ্গে দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই আশঙ্কাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
‘আইনগতভাবে লড়াই করতে প্রস্তুত’
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তারা আইনগতভাবে লড়াই করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এনসিপির মুখপাত্রের বক্তব্যের ফলে দুদকের ভূমিকা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগ আমলের কথিত দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের তদন্ত নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলই বিষয়টির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করবে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।














