Home সর্বশেষ সংবাদ হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় বৈঠক স্থগিত, তেল সরবরাহে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় বৈঠক স্থগিত, তেল সরবরাহে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

0
8
হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় বৈঠক স্থগিত, তেল সরবরাহে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক।বিডি ভিউজ বাংলা

প্রকাশের তারিখ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’ বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওমান।

একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ ঘিরে নতুন করে হামলা ও উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

ঐকমত্যের স্বার্থে বৈঠক স্থগিত

রোববার রাতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ বদর আলবুসাইদি জানান, সোমবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি ঐকমত্যের স্বার্থে স্থগিত করা হয়েছে।

বৈঠকে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ওমানের সঙ্গে ইরানের একটি চুক্তির প্রস্তাবও সেখানে আলোচনার কথা ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের অনুরোধের পর বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তেহরান ও মাসকাট যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নতুন তারিখ নির্ধারণে দুই দেশ সমন্বয় করবে।

সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ

হরমুজ সংকটের মধ্যেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান বিকল্প পথ এটি।

রয়টার্সকে সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলেও ইয়ানবু বন্দরে মজুত তেলের মাধ্যমে সৌদি আরব প্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে।

তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

মেরামতে লাগতে পারে কয়েক সপ্তাহ

সৌদি আরব এখনো পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। এটি কতদিন বন্ধ থাকবে, তাও নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। স্যাটেলাইট ছবিতেও পাইপলাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া ওঠার দৃশ্য দেখা গেছে।

এ কারণে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বিকল্প তেল পরিবহনপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

হরমুজ প্রণালিতেও হামলার ঘটনা

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, রোববার প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের সময় একটি জাহাজে গোলার মতো কোনো বস্তুর আঘাত লাগে।

এরপর জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইরানও জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন ক্রু আহত হয়েছেন।

‘দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ খুলবে না’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না।

এমন বক্তব্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে।

গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা জুলাইয়ের পর প্রথমবার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দামও রোববার গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ২০ ডলারের বেশি হয়েছে, যা নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথিদের হামলাতেও বাড়ছে উদ্বেগ

ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথিদের হামলাও অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে সীমান্তের ওপার থেকে হামলার পর বাড়িঘর ও একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছে সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

হুথিরাও জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

এর ফলে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর—দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের অগ্রগতি এবং সৌদি আরবে তাদের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।

একদিকে ওয়াশিংটন সৌদি আরবের মতো মিত্রদের সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। অন্যদিকে ইয়েমেনে নতুন করে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালির রাজনৈতিক সমাধানের বৈঠক স্থগিত হওয়া, সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ থাকা এবং লোহিত সাগর ও হরমুজে নতুন হামলার ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here