আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজার ২০টির বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ জানিয়েছেন, অর্থসংকটের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জ্বালানি সংকটে হাসপাতালগুলো
মুনির আল-বুরশের ভাষ্য, বর্তমানে গাজায় যে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি পৌঁছাচ্ছে, তা দিয়েই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কোনোভাবে চালু রাখা হচ্ছে। ডিজেল সরবরাহ বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠবে।
গাজার হাসপাতালগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটরের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জ্বালানি, ইঞ্জিন অয়েল ও যন্ত্রাংশের সংকটে কয়েকটি হাসপাতালের জেনারেটর ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ঝুঁকিতে জরুরি চিকিৎসাসেবা
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজেল সরবরাহ বন্ধ হলে শুধু জেনারেটর চালানোই ব্যাহত হবে না; অস্ত্রোপচারকক্ষ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র, ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থাও ঝুঁকিতে পড়বে।
বিশেষ করে ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক, ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগী, আহত ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং ওষুধ ও টিকা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় কোল্ড-চেইন ব্যবস্থাও জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএইচওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডব্লিউএইচওর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডব্লিউএইচও তাদের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম ও কর্মসূচিতে অর্থায়ন কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
এর আগে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, জ্বালানি ও জেনারেটরের তেল সংকটের কারণে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবা সচল রাখার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডব্লিউএইচও, দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হলে গাজার ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স













