মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৪, কারাগারে
নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শাহ আলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভাঙচুরে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের কে বা কারা অর্থ দিয়েছিল এবং ঘটনার পেছনে পরিকল্পনাকারী কারা—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মধ্যরাতে হামলা ও লুটপাট
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একদল ব্যক্তি রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ ও স্থাপনায় ভাঙচুর করে।
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি, স্টিলের আলমারিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মালামাল নিয়ে যায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কয়েকটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ, অস্বীকার বিএনপি নেত্রীর
ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন রয়েছে।
তবে ফেরদৌসী আহমেদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ভাঙচুরের ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্ত শেষ হয়নি এবং কারও বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মালিকানা নিয়ে বিরোধ আদালতে নিষ্পত্তির কথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জমি বা মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকলেও রাতের অন্ধকারে এভাবে একটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা অনাকাঙ্ক্ষিত।
ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতা। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে মিরপুরে জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিলও করেছে।
এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেম আরমান, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন নেতা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হামলার পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের শনাক্তের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
প্রায় পাঁচ দশকের স্বাস্থ্যসেবা
১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রজনন স্বাস্থ্য, গর্ভকালীন ও














