সৌদি আরবে চার ড্রোন ভূপাতিত, সহায়তায় প্রস্তুত মিসর
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটল। এদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। <Cite refs={[“turn530793search0″,”turn530793search10”]}/>
সৌদি আরবে হামলা মোকাবিলায় সামরিক তৎপরতা
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি শনিবার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, এতে হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি ইয়েমেনে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে হামলার দৃশ্য রয়েছে।
গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুথিদের মধ্যে লড়াই নতুন করে তীব্র হওয়ার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। তবে এসব হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও হতাহতের পরিসংখ্যান পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। <Cite refs={[“turn530793search1″,”turn530793news23”]}/>
এডেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনেও সাম্প্রতিক সময়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইয়েমেন সরকার এ হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে।
শুক্রবার ইয়েমেন সরকার আরও জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সময়ে সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার কথা জানায়।
সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। দেশটির সরকারি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল পুনর্দখলের লক্ষ্যে অভিযান জোরদার করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হুথিদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।
ইয়েমেনের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। <Cite refs={[“turn530793search10″,”turn530793search15”]}/>
সৌদিকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিসর
সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে সহায়তা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
শনিবার মিসরের সামরিক একাডেমির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, সৌদি আরবের অনুরোধ এলে দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মিসর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর বক্তব্য কাউকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং প্রতিরক্ষার বিষয়ে।
আল-সিসি জানান, এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য মিসরের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে তিনি পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছেন।
মিসরের পার্লামেন্টের সচিবালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৮ অক্টোবর) জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। <Cite refs={[“turn530793search1″,”turn530793search2″,”turn530793news21”]}/>
ইরানের ভূমিকা নিয়ে সৌদি আরবের অভিযোগ
সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, ইরান হুথিদের হামলা জোরদারে সহায়তা ও উৎসাহ দিচ্ছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সংঘাত নিরসনে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সমাধানই সংঘাতের স্থায়ী অবসানের বাস্তবসম্মত পথ।
এদিকে সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে। সাম্প্রতিক হামলার পর নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় কিছু স্থানে ভ্রমণ ও বিমানবন্দর ব্যবহারের বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে।
সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও রিয়াদ ও কাছাকাছি দিরিয়াহ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং মিসরের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহায়তার ঘোষণা ইয়েমেন সংঘাতের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মিসরের পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয় কি না, তার ওপর দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, বিমান চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে প্রভাব পড়তে পারে। তবে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি ও মিসরের রাষ্ট্রীয় তথ্যসেবা সংস্থা।















