গোলাবারুদের মজুত, বেসামরিক প্রাণহানি ও আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ; হামলা আপাতত স্থগিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এবং এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইরানে চলমান সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে জেনারেল ড্যান কেইন যুদ্ধের সম্ভাব্য মানবিক, সামরিক ও কৌশলগত ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।
গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ
সূত্রগুলোর দাবি, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়া অন্যতম বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসে। জেনারেল কেইন ট্রাম্পকে জানান, মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে সক্ষম হলেও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের সম্ভাব্য পরিণতিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বৈঠকে আরও বলা হয়, বড় ধরনের নতুন হামলা শুরু হলে ইরানে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত উপদেষ্টারা সতর্ক করেন, এমন হামলা হলে অসংখ্য সাধারণ মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং বিদ্যুৎ ও খাদ্য সংকটে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
বৈঠকে সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও আলোচনা হয়।
উপদেষ্টাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের প্রভাব বিবেচনা করা উচিত।
হামলা আপাতত স্থগিত
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, টানা প্রায় ১৩ রাত ইরানে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আপাতত অভিযান স্থগিত রেখেছে।
গত শনিবার পেন্টাগনের একটি সূত্র জানায়, ইরানে সামরিক অভিযান বর্তমানে ‘স্থগিত’ রয়েছে।
তবে হামলা স্থগিতের মূল কারণ গোলাবারুদের ঘাটতি, নাকি আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে সব ধরনের বিকল্প খোলা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং টানা ১৩ দিনের সামরিক অভিযানের পর ইরানের জন্য আলোচনার পথে এগিয়ে যাওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার স্বীকারোক্তি
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউক্রেনকে বড় পরিসরে সামরিক সহায়তা এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দ্রুত, কম ব্যয়বহুল এবং আধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন করে সামরিক মজুত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়ানো উচিত হয়নি।
তার ভাষায়, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় মার্কিন সেনা ও মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সূত্র: CNN












