আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক। বিডি ভিউজ বাংলা: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে সুসম্পর্ককে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করে এসেছেন। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে সেই কৌশল আগের মতো কার্যকর নাও থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেতানিয়াহু। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা শুরুর পর এটিই ছিল তার প্রথম ওয়াশিংটন সফর। এই সফরের মাধ্যমে দুই নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে বাস্তব পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল।
বিশ্লেষকদের দাবি, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর গ্রহণযোগ্যতা আগের তুলনায় কমেছে।
লন্ডনের কিংস কলেজের যুদ্ধবিষয়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আহরন ব্রেগম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ট্রাম্পকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে সেই কৌশল প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় তার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাসের মতে, নেতানিয়াহুর এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো দৃঢ় রয়েছে—এমন বার্তা দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দেওয়া।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির কিছু প্রভাবশালী রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বও সম্প্রতি নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও ইসরায়েলকে ঘিরে আগের মতো একক অবস্থান নেই বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এরই মধ্যে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। পাশাপাশি দুর্নীতির মামলার বিচার এবং চলমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটও নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ দেখালেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ককে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরা এবার নেতানিয়াহুর জন্য আগের তুলনায় অনেক কঠিন হতে পারে।












