আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলাঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী বাছাইয়ের লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক)।
আইপ্যাকের সমর্থিত প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সের পেছনে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হলেও শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন ইসরায়েলের কড়া সমালোচক আবদুল আল–সাইয়েদ। ফলে সংগঠনটির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপ্যাকের সুপার প্যাক ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ হ্যালি স্টিভেন্সের প্রচারে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করে। তাদের লক্ষ্য ছিল আবদুল আল–সাইয়েদকে পরাজিত করা। তবে ব্যাপক অর্থ ব্যয়ের পরও অল্প ব্যবধানে জয় পান আল–সাইয়েদ।
আইপ্যাক এখন সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে কয়েক কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
আইপ্যাকের মুখপাত্র ডেরিন সাউসা বলেন, তারা আবদুল আল–সাইয়েদের ‘ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের’ বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে আইপ্যাকের বিপুল অর্থ ব্যয় উল্টো ফল দিয়েছে। কারণ আল–সাইয়েদ তার প্রচারে আইপ্যাকের হস্তক্ষেপকেই অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন।
আল–সাইয়েদ বলেন,
“আইপ্যাক সাধারণ নির্বাচনেও আমার বিরুদ্ধে অর্থ ব্যয় করুক। আমি তাদের অর্থ নষ্ট করতে প্রস্তুত।”
দীর্ঘদিন ধরে আইপ্যাক দাবি করে আসছে, ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের রাজনীতিবিদদের জন্যই লাভজনক। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেক ভোটারের মধ্যে এখন ইসরায়েল নীতি নিয়ে নতুন ধরনের মনোভাব তৈরি হয়েছে। মিশিগানে প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট ভোটারের আইপ্যাক সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে বলে সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইসরায়েল সমালোচক ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রাইমারিতে জয় আইপ্যাকের দীর্ঘদিনের কৌশলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস












