আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা, প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টি সামনে এনেছে। জর্ডানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও এই ঝুঁকির মাত্রা আরও স্পষ্ট করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর দাবি, এসব হামলা দেখিয়েছে যে বিদেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ২ হাজারের বেশি বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আটটি দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত অন্তত ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদপত্রটির আরও দাবি, শুধু সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাবেই ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ৪২টির বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অস্ত্রভান্ডার কমে যাওয়ায় নতুন উদ্বেগ
এদিকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংঘাতে দেড় হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ক্রুজ ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এসব অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবও রয়েছে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে তৈরি হওয়া ঘাটতির একটি অংশ ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর সেই ঘাটতি আরও বড় সংকটে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ায় সম্ভাব্য সামরিক হুমকির মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের এই ঘাটতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তাইওয়ান বা পূর্ব ইউরোপের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তারা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আগামী কয়েক দশকে বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামো ও আন্তর্জাতিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্পাদকীয় নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত হামলা, ক্ষয়ক্ষতি ও অস্ত্র ব্যবহারের পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।












