আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ PM
সর্বশেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:১০ PM
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে রেকর্ড সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে তাদের পরিবার ও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সামরিক সংবাদমাধ্যম নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রণতরীটির মোতায়েন নবম মাসে পৌঁছেছে এবং একপর্যায়ে প্রায় ২৫০ দিন টানা সমুদ্রে অবস্থান করেছে। পরিবারগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় জাহাজে থাকা, অনিশ্চিত ফেরার তারিখ ও কঠোর কর্মপরিবেশ নাবিকদের ওপর বড় ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করছে।
আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ
প্রতিবেদনগুলোতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কয়েকজন নাবিকের সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করার কথা উঠে এসেছে। একটি ঘটনায় একজন নাবিককে সহকর্মীরা সময়মতো ধরে ডেকে ফিরিয়ে আনেন বলেও পরিবারের সদস্যদের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি মার্কিন নৌবাহিনী।
সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রায় ২০০ নাবিকের পরিবারের সদস্য তাঁদের উদ্বেগ তুলে ধরেন। সেখানে নাবিকদের মানসিক চাপ, দীর্ঘ মোতায়েন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সমস্যার বিষয়ও উঠে আসে।
জীবনযাত্রার মান নিয়েও অভিযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন রণতরীটির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ছত্রাকযুক্ত শাওয়ার, নষ্ট টয়লেট, লন্ড্রি সুবিধায় সমস্যা, দীর্ঘ সময় গরম পানির সংকট এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সামগ্রীর ঘাটতি।
তবে মার্কিন নৌবাহিনী বলছে, দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নাবিক ও তাঁদের পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে—এ বিষয়ে তারা সচেতন। নৌবাহিনীর দাবি, জাহাজে কাউন্সেলর, চ্যাপ্লিন, চিকিৎসক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে এবং তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টায় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শনাক্ত হয়নি।
কবে ফিরবে রণতরী?
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের ২১ নভেম্বর সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনের কথা থাকলেও পরে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। এর মোতায়েন মে মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে এবং ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব ও যুদ্ধকালীন দায়িত্বের কারণে নাবিকদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্ন হলো—দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে দায়িত্ব পালনকারী নাবিকদের শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী কি যথেষ্ট ব্যবস্থা নিতে পারছে?
সূত্র: Navy Times, Stars and Stripes, The Guardian.












