আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬
সিরিয়াকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা শুরু হয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তাদের আশঙ্কা, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে তুরস্কের সঙ্গে বিরোধ আরও বাড়লে ইসরাইলের জন্য নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট তৈরি হতে পারে।
ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ সতর্ক করে বলেছে, নেতানিয়াহু সরকারের নীতির কারণে ইসরাইল আরেকটি ‘অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে’ জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ১৮ আগস্ট উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলার পর তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পত্রিকাটির মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় সামরিক হামলা হতে পারে না। তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে ইসরাইলকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেটও নেতানিয়াহু সরকারের নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা ইসরাইলের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন একটি ‘ফ্রন্ট’ তৈরি করতে পারে। কূটনীতির পরিবর্তে প্রকাশ্য হুমকি ও রাজনৈতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে মারিভ-এর প্রতিবেদনে ইসরাইলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে তুরস্ককে ঘিরে নতুন যুদ্ধফ্রন্ট তৈরির আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।
সিরিয়াকে ঘিরে মুখোমুখি তুরস্ক-ইসরাইল
সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলার পর তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরাইলের দাবি, সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার আশঙ্কা থেকেই হামলা চালানো হয়েছে। তবে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের এ অবস্থানের সমালোচনা করেছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি জানিয়েছেন, হামলার পর ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করেছে দামেস্ক। একই সঙ্গে সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তুরস্কের সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন তিনি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের কোনো কারণ নেই। তাঁর মতে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নেতানিয়াহু তুরস্ককে নতুন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরছেন।
সব মিলিয়ে গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে জড়িয়ে থাকা ইসরাইলের জন্য তুরস্কের সঙ্গে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—এ প্রশ্নই এখন দেশটির গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের আলোচনায় উঠে এসেছে।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ, রয়টার্স ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমস












