যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি হামলা, এক দিনে নিহত ৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১ অক্টোবর ২০২৬
আপডেটের তারিখ: ১ অক্টোবর ২০২৬
গাজায় প্রায় এক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার বিভিন্ন হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জারও রয়েছেন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার আল-নাজ্জার নিহত হন। তবে তিনি কোথায় বা কীভাবে নিহত হয়েছেন, তা জানানো হয়নি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে ২৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কার্যালয়টি।
এদিকে গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসাসূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা হামলায় আহত ১৩ জনকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। চিকিৎসাসূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
এর আগে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হামলায় অন্তত এক নারী নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুতদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে ওয়াফা। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসেও ইসরাইলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় ভূখণ্ডটির বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত নয়জনের মরদেহ এসেছে। তাদের মধ্যে আটজন ওই দিনের হামলায় নিহত হয়েছেন। অপর একজন আগে আহত হয়ে পরে মারা যান।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৫ হাজার ২৬ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ৩১ জন।
আল-জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর সহিংসতা থামছে না। প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিরা নিহত ও আহত হচ্ছেন। একই সঙ্গে অবনতির দিকে যাচ্ছে মানবিক পরিস্থিতিও।
তিনি জানান, গাজার বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন। বাজারে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে নেওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৭৪ হাজার ৩২ জন নিহত এবং আরও ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনার সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা, অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যুদ্ধ শুরুর পর ধ্বংস হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, ওয়াফা













