Home আন্তর্জাতিক প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ভারতের ছাত্র আন্দোলন নতুন মোড়ে, মোদি সরকারের জন্য বাড়ছে রাজনৈতিক...

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ভারতের ছাত্র আন্দোলন নতুন মোড়ে, মোদি সরকারের জন্য বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

0
22
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ভারতের ছাত্র আন্দোলন নতুন মোড়ে, মোদি সরকারের জন্য বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

বিডি ভিউজ বাংলা নিউজ ডেস্ক

ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থী আন্দোলন দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমেছেন।

গত সোমবার ঘোষিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে হাজারো শিক্ষার্থী ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। তবে এরপরও প্রতিদিনই নতুন করে হাজারো শিক্ষার্থী আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন।

আন্দোলনের অন্যতম মুখ পরিবেশকর্মী ও সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুক জানান, আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২৬ দিনের অনশনে তাঁর ১১ কেজি ওজন কমেছে। যদিও তিনি অনশন ভেঙেছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের বিশেষত্ব হলো এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ, সামাজিক শ্রেণি বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি। বরং সরকারি নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভই আন্দোলনের মূল শক্তি।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো ইয়ামিনী আইয়ার বলেন, শিক্ষা ও পরীক্ষা এমন একটি বিষয় যা জাত, শ্রেণি ও লিঙ্গের বিভাজন অতিক্রম করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে, সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের গবেষক রাহুল ভার্মা মনে করেন, এই আন্দোলন আদর্শগত নয়; বরং সরকারের সুশাসন নিশ্চিত করার সক্ষমতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাঁর মতে, এ কারণেই এটি ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

প্রযুক্তি ও সমাজবিষয়ক গবেষক, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জয়োজিত পাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে দ্রুত গণআন্দোলনে রূপ দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্দোলন আরও দেখা যেতে পারে।

এদিকে, রাজনৈতিক বিজ্ঞানী সুহাস পালশিকর মনে করেন, আন্দোলনটি হয়তো কৃষক আন্দোলনের মতো কিছুদিন পর স্তিমিত হয়ে যেতে পারে। তবে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ সুরজিৎ মজুমদার মনে করেন, এটি শুধু প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ নয়; বরং ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের গভীর অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনটি ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে নাকি সাময়িক বিক্ষোভ হিসেবেই শেষ হবে—তা নির্ভর করবে সরকারের পদক্ষেপ এবং আন্দোলনের ভবিষ্যৎ গতিপথের ওপর।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here