আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান, ধরপাকড় এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে ইসরাইল। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোতে অভিযান বাড়ানোর পাশাপাশি কট্টরপন্থি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দুই ইসরাইলি সেনা নিহতের ঘটনার পর অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এলা ওয়াওয়েয়া জানান, নাবলুসের কাছে তাল গ্রামে অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, ভবনগুলো ধ্বংসের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সেগুলো সাময়িকভাবে সিলগালা করা হচ্ছে।
ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘর ধ্বংসের নীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ নীতিকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছে।
গত শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী, বসতি স্থাপনকারী এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হন।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলোর দাবি, অবৈধ ইসরাইলি বসতি হাভাত গিলাদ-এর কাছাকাছি তাল গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তাদের অভিযোগ, গ্রামবাসীরা নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষার চেষ্টা করলে বসতি স্থাপনকারীরা গুলি চালায়।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই এলাকায় বেড়াতে যাওয়া ইসরাইলিদের ওপর হামলার খবর পেয়ে সেনা মোতায়েন করা হয়।
এদিকে পশ্চিম তীরজুড়ে পৃথক অভিযানে অন্তত ৮০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, নাবলুস, রামাল্লাহ, জেনিন, হেবরন, বেথলেহেম ও তুলকারেমসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
এছাড়া কুসরা শহরের আর-রাহমা মসজিদে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম জানায়, বসতি স্থাপনকারীরাই মসজিদটিতে আগুন দেয়। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
একই সময়ে জেনিন শহর ও আশপাশের এলাকায় বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন গ্রামের প্রবেশপথে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে বাড়ছে, যখন ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগ্রাসন বৃদ্ধির যে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে, তা বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন; এ বিষয়ে ইসরাইল সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: এএফপি, ওয়াফা, কান, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম












