ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঢাকার, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০২৬
বিভাগ: আন্তর্জাতিক | কূটনীতি
বিডি ভিউজ বাংলা ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভারত সরকারের প্রতি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।
আগে থেকেই ভারতকে সতর্ক করেছিল ঢাকা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন—এ বিষয়ে ৩ আগস্টই ভারত সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে এমন আয়োজন দুই দেশের ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। তবে সেই উদ্বেগ উপেক্ষা করেই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশ গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে।
সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননার অভিযোগ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জনগণ যখন শহীদদের স্মরণ করছিল, তখন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।
ভারতের অবস্থান
সংবাদ সম্মেলনের আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, অনুষ্ঠানটির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি জানান, ওই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামতকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।
দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে বিশ্লেষকদের মত
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে নিজের অবস্থান ও সমর্থকদের ধরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে এবং এতে রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় দুই বছর ধরে টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ ও ভারত যখন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে, তখন এই ঘটনা নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। তবে পারস্পরিক স্বার্থে উভয় দেশের সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তারা তুলে ধরেছেন।












