আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলকে ‘অবৈধ’ রাষ্ট্র উল্লেখ করে মুসলিম বিশ্বের জন্য দেশটিকে বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পরদিন একটি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের বিষয়ে সব মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইসরায়েল বেলফোর ঘোষণার ফল এবং ১৯৪০-এর দশকে একটি ‘অবৈধ রাষ্ট্র’ হিসেবে এর জন্ম হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
খাজা আসিফ বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতি এবং ইসলামবিরোধী মনোভাব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলের পরবর্তী নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরাজিত হলেও দেশটির নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, জেরুজালেমের ক্ষমতায় কে আসছেন, সেটি বড় বিষয় নয়; ইসরায়েলের বিভিন্ন নেতার মধ্যে নীতিগত পার্থক্য খুব বেশি নেই।
খাজা আসিফের এসব মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল।
ইসরায়েল-পাকিস্তান সম্পর্ক
পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। পাকিস্তান এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
ইসলামাবাদের অবস্থান হলো—পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্তের ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
২০১৮ সালে ভারত সফরের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, পাকিস্তান ইসরায়েলের শত্রু নয় এবং পাকিস্তানেরও ইসরায়েলের শত্রু হওয়া উচিত নয়।
তুরস্ক-পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা জোট
এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সই হওয়া ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কৌশলগতভাবে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো।
অর্থাৎ তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান জানান, এই জোটের অধীনে ন্যাটোর আদলে একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি সাধারণ সচিবালয় গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কারিগরি কিছু বিষয় সমাধান হলে মিসরের এই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।












