🔴 চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত, প্রশাসক নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের
জাতীয় নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা: বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটির পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদও শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা ও রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং-এ প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা হলেন—
- আভিভা ফাইন্যান্স: পরিচালক আলাউদ্দীন হোসেন
- ফারইস্ট ফাইন্যান্স: পরিচালক সাদেকুর রহমান
- এফএএস ফাইন্যান্স: পরিচালক আতাউর রহমান
- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং: পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসকদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও দুজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর (নন-ভায়েবল) ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেজল্যুশনের আওতায় এনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ ও বিনিয়োগ, তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয়ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও পাওনাদারদের দায় পরিশোধে অক্ষমতার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
পিপলস লিজিংয়ে আপাতত প্রশাসক নয়
বন্ধের তালিকায় থাকা পিপলস লিজিং-এ আপাতত প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় আদালতের আদেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সেখানে প্রশাসক নিয়োগের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
প্রশাসকদের অন্যতম দায়িত্ব হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা।
পাঁচ প্রতিষ্ঠানে আমানত ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি
বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে—
| আর্থিক প্রতিষ্ঠান | আমানত |
|---|---|
| আভিভা ফাইন্যান্স | ৫,৩৬৮ কোটি টাকা |
| পিপলস লিজিং | ৩,৫৯৩ কোটি টাকা |
| ইন্টারন্যাশনাল লিজিং | ৩,০১২ কোটি টাকা |
| এফএএস ফাইন্যান্স | ১,২৪৬ কোটি টাকা |
| ফারইস্ট ফাইন্যান্স | ৪৪৯ কোটি টাকা |
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। একজন ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
এদিকে, বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
আরও চার এনবিএফআইকে দেওয়া হয়েছে সময়
এর আগে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য বাছাই করা হলেও চূড়ান্তভাবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স—এই চার প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এসব প্রতিষ্ঠানও বন্ধের আওতায় আসতে পারে।












