Home সর্বশেষ সংবাদ ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও এস আলমের বিরুদ্ধে দুদকে...

৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও এস আলমের বিরুদ্ধে দুদকে ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগ

0
29
৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও এস আলমের বিরুদ্ধে দুদকে ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে জালিয়াতি করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) এবং আরও ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ কর্পোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে ইসলামী ব্যাংক তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ঋণ জালিয়াতির নেপথ্যে

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কথিত ঋণ জালিয়াতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি রুগ্ণ ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক বিনিয়োগ সীমা ছিল ১০০ কোটি টাকা। পরে রাজনৈতিক প্রভাব ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ঋণের সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। প্রথমে তা ২০০ কোটি এবং পরবর্তীতে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রধান কার্যালয়ে ঋণ প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী বোর্ডের সভায় এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়।

ঋণ পরিশোধের জন্য ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একাধিকবার তাগাদাপত্র ও চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও ঋণগ্রহীতারা কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে যাদের নাম

ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস ওরফে আলহাজ্ব মো. ইউনুস বাদলের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যালাক্সি সোয়েটার্স অ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এ বি এম শামসুল হাসান, সালেহা শাহিন ও উম্মে সালমা শারমিনের নামও অভিযোগে রয়েছে।

অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল আলম (মাসুদ) ওরফে এস আলমকে ঋণের সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কয়েকজন পরিচালক, নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও, সাবেক ডিএমডিসহ ব্যাংকের একাধিক সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম অভিযোগে রয়েছে।

যে আইনে ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে

অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(এ), ৩৪ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(১)(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ কর্পোরেট শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, এস আলমের ঋণ অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যাংকের একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে একটি মামলার তথ্য সরবরাহের অংশ হিসেবে দুদকে ঋণ অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো অভিযোগ হাতে পাননি। কমিশন পুনর্গঠিত হওয়ার পর এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে দুদকের তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here