Home সারাদেশ কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে ৫৭ লাখ টাকা লুট: নারীকে মূল পরিকল্পনাকারী বলছে পুলিশ

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে ৫৭ লাখ টাকা লুট: নারীকে মূল পরিকল্পনাকারী বলছে পুলিশ

0
4
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে ৫৭ লাখ টাকা লুট: নারীকে মূল পরিকল্পনাকারী বলছে পুলিশ

জাতীয় নিউজ ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলাঃ কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে বিকাশের ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এক নারীকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েক দিন ধরে বিকাশের টেকনাফ এজেন্সির সেলসম্যানদের গতিবিধি নজরদারি করছিলেন ওই নারী।

পুলিশের ধারণা, ঘটনার দিন ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর সেলসম্যানদের অনুসরণ করে ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে তাদের অবস্থান ও গতিপথের তথ্য পৌঁছে দেন তিনি। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই ডাকাতরা বাসটি থামিয়ে টাকা লুট করে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। লুট হওয়া টাকার মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, আদালত সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ডাকাতির শিকার বিকাশ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

নারীকে ঘিরে তদন্তে নতুন তথ্য

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত ওই নারী টেকনাফের লেদা এলাকায় সক্রিয় একটি সশস্ত্র ডাকাত চক্রের নেতৃত্ব দেন বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। তাঁর ভাইকে সামনে রেখে কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবককে নিয়ে চক্রটি গড়ে তোলা হয়েছে বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের দাবি, চক্রটির বিরুদ্ধে অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট বিকাশের সেলসম্যানরা যে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন, সেদিন ওই নারীও ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরে অটোরিকশায় করে তিনি যাত্রীবাহী বাসটিকে অনুসরণ করেন।

মোবাইল ফোনে পাহাড়ে অবস্থানরত ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে সেলসম্যানদের অবস্থান ও গতিপথের তথ্য পাঠানো হয় বলে তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ।

দুইজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানান, ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়।

তাঁদের মধ্যে আয়াজ নামে এক রোহিঙ্গা এবং লেদা এলাকার হোসেন আলী টেকনাফের বিচারিক হাকিম নাজমুল হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে লেদা এলাকার আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামের নাম জানা গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর এক নারীই পরিকল্পনাকারী কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সূত্র।

লুটের টাকা দিয়ে স্বর্ণালংকার ছাড়ানোর অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত চক্রের প্রায় সব সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনাকারী নারীকে ঘিরে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক সদস্য জানান, লুট হওয়া টাকার একটি অংশ দিয়ে ওই নারীর বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ডাকাতির পর টাকা ভাগাভাগির আগেই একটি স্বর্ণের দোকানে সুদসহ বকেয়া পরিশোধ করে স্বর্ণ ফেরত নেওয়া হয়।

যেভাবে লুট হয়েছিল ৫৭ লাখ টাকা

গত ২ আগস্ট টেকনাফ স্থলবন্দরের উত্তর পাশে ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের গতিরোধ করে সশস্ত্র ডাকাতরা।

এ সময় বিকাশের দুই সেলসম্যানের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুট করা হয়। ডাকাতরা গুলি ও হামলা চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা ডাকাতির ঘটনায় অগ্রগতি রয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য বলা যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, কিছু টাকা উদ্ধারসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here