Home সর্বশেষ সংবাদ ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: অভিযোগকারী কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: অভিযোগকারী কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

0
6
ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: অভিযোগকারী কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা

ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপ, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০
সর্বশেষ আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পূর্বানুমতি ছাড়া দুদকে অভিযোগ দায়ের করায় ইয়াসীন আলীর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকের কিছু নথিতে দুদকে অভিযোগ করার বিষয়ে আগের অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন জানিয়েছেন, ইয়াসীন আলীকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি; তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ইয়াসীন আলীকে বরখাস্তের তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড, গ্যালাক্সি সোয়েটার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ২৭ জুলাই ইয়াসীন আলীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়।

এরপর ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিরুল মওলাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয় এবং পরে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ব্যাংকের দাবি, চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদন্তে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সুপ্রভ কম্পোজিটের ঋণসীমা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছিল বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নথি অনুযায়ী, তিনি ২০১৭ সালের ৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালক ছিলেন।

তবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিষয়গুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে; এগুলোর সত্যতা নির্ধারণ হবে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায়।

বিডি ভিউজ বাংলা | জাতীয় নিউজ ডেস্ক

আপডেট: ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিতে ২৬ ও ২৭ জুলাইয়ের অনুমোদনের তথ্য থাকায় ইয়াসীন আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here