নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশের তারিখ: ১৬ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পরদিনই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলাউদ্দিনকে সন্দ্বীপ থানায় বদলি করা হয়েছে। রিমান্ড চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় মামলার তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম ডেভিড ইমনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর পরদিন, ১৩ আগস্ট জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এসআই আলাউদ্দিনকে সন্দ্বীপ থানায় বদলির আদেশ দেন।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার রাতে এসআই আলাউদ্দিনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই মামলাটির জন্য নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।
এসআই আলাউদ্দিন বলেন, তার বদলি প্রশাসনিক কারণে নয়, ‘জনস্বার্থে’ করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ আসামির রিমান্ড চলাকালে বদলির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তদন্তভার নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা
মামলাটির তদন্তভার হস্তান্তর নিয়েও পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ প্রথমে জানান, ডিবির অভিজ্ঞতা বেশি থাকায় তিন দিন আগেই মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরে রিমান্ড চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তা বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিমান্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসআই আলাউদ্দিনই মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন। নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও মামলাটি হাটহাজারী থানাতেই থাকবে।
অন্যদিকে মামলার বাদী জসিম উদ্দিনও তদন্ত কর্মকর্তা বদলি বা মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) তারেক আজিজ বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ডেভিড ইমনকে জেলা ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রোববার (১৬ আগস্ট) তার রিমান্ড শেষ হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
যেভাবে মামলায় ডেভিড ইমনের নাম আসে
গত ২৬ জুলাই হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মুখোশধারী ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে জসিম উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
পরবর্তী সময়ে ওই মামলায় মো. আসিফ (২৫) ও ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলাউদ্দিন। গত ২ আগস্ট আদালত ডেভিড ইমনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমন কী তথ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।
কে এই ডেভিড ইমন?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই ভারতের সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় যশোর থেকে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রামে এনে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১৯টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ এবং তার দলের কাছে ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ডেভিড ইমন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত তথ্য আলাদাভাবে বিবেচ্য।
📌 সূত্র: পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য; এশিয়া পোস্ট












