নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। এর জবাবে কানাডার তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের মতো সব সুবিধা ভোগ করতে চায়!!!’
বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এটিই ট্রাম্পের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কৃষকদের ওপর বিপুল অঙ্কের শুল্ক আরোপ করে আসছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বহু বছর ধরে আমাদের মহান কৃষকদের ওপর বিপুল অঙ্কের শুল্ক চাপিয়ে এসেছে। আর নয়!!!’
৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার পাল্টা শুল্ক
এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন শুল্কনীতিকে ‘ভুল হিসাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শনিবার তিনি জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে কানাডা। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্যে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এখন বাণিজ্য ‘যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েছে।
কানাডার ওপর নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক
এর আগে শনিবার থেকেই কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্য পড়বে বলে জানানো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
কার্নির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল ‘মাত্রাতিরিক্ত’ এবং বিনিময়ে তারা দিতে চেয়েছে ‘যৎসামান্য’।
তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত হলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। আমাদের ওপর সরাসরি আক্রমণ করা হয়েছে।’
‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ মন্তব্যে ক্ষোভ
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার বিষয়ে বিভিন্ন সময় মন্তব্য করে আসছেন ট্রাম্প। তার সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে।
এ নিয়ে কানাডার নীতিনির্ধারক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কার্নি বলেন, ‘ওরা যা প্রস্তাব করেছে তা আমরা মেনে নিতে পারি না, আর ওরা যা দাবি করেছে তা-ও আমরা দেব না।’
শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেল আলোচনা
সপ্তাহের শুরুতেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ দেখা গিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ তোলায় আলোচনা ভেস্তে যায়।
কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, অটোমোবাইল ও কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগের শুল্ক বহাল থাকছে। এর পাশাপাশি একাধিক কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কও কার্যকর হয়েছে।
কার্নি জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘অনিচ্ছাসত্ত্বেও’ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে কানাডাকে।
বিরোধীদেরও সমর্থন
প্রধানমন্ত্রী কার্নির পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে কানাডার প্রধান বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিসহ বিভিন্ন ফেডারেল দলের নেতারা।
দেশটির সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডও কার্নির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পকে ‘বিশ্বাস করা যায় না’।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।












