আন্তর্জাতিক নিউজডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজে উপাধ্যক্ষ ড. মহম্মদী তরন্নুমকে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা, মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা কার্যকর করতে গিয়ে তিনি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর বিক্ষোভের মুখে পড়েন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার পর তার কক্ষে গঙ্গাজল ছিটিয়ে এবং ধূপ জ্বালিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগও উঠেছে।
অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ
ঘেরাও চলাকালে ড. তরন্নুমকে একটি অন্ধকার কক্ষে আটকে রেখে আলো ও পাখা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। টানা প্রায় ২৩ ঘণ্টা তাকে খাবার ও পানি দেওয়া হয়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তথা বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর কাছে উদ্ধারের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ
ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও উপাধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর আগে কলেজের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তলোয়ার ও টাকার বান্ডিল উদ্ধারের ঘটনায় বিজেপি নেতা সজল ঘোষের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই বর্ণনায় পাওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশি নিরাপত্তায় কলেজ ছাড়েন
শেষ পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রবল চাপের মুখে পুলিশি নিরাপত্তায় ড. তরন্নুমকে কলেজ ছাড়তে হয় বলে অভিযোগ।
ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় তিনি নিজে পদত্যাগ করেননি এবং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে—এমন দাবি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে ধর্মীয় বিদ্বেষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।













