Home আন্তর্জাতিক ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ না বাড়ানোর পথে ট্রাম্প, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় উদ্বেগ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ না বাড়ানোর পথে ট্রাম্প, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় উদ্বেগ

0
8
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ না বাড়ানোর পথে ট্রাম্প, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে—এমন উদ্বেগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

শনিবার (২৫ জুলাই) দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের কমে আসা মজুত গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।

বিশেষ করে জর্ডানে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানার ঘটনায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রশাসনকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ সামরিকভাবে সম্ভব হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) হাতে থাকা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানায়, শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের বৈঠকের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের বেশিরভাগই এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযানকে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি জেনারেল ড্যান কেইনের মুখপাত্র।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব এবং কংগ্রেস-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চলাকালে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের মূল্য ৪০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি।

সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, তখনই ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে এসেছিল এবং এরপর পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চেউং বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ওয়াশিংটন সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখবে। তার ভাষায়, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই ইরানের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের পথ।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে বলেন, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা যাবে—এমনটি তিনি মনে করেন না।

এছাড়া বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও কয়েকটি সূত্রের মতে, নতুন হামলা ইরানের নেতৃত্বকে বহিরাগত হুমকির মুখে আরও ঐক্যবদ্ধ করতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও দুর্বল করে দিতে পারে।

সূত্র: The New York Times

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here