Home আন্তর্জাতিক ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলার হুমকি, তুরস্ক থেকে ফেরার পথে বদলানো হয়...

ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলার হুমকি, তুরস্ক থেকে ফেরার পথে বদলানো হয় বিমা

0
9

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি ভিউজ বাংলা

চলতি মাসে তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় হঠাৎ করে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলন চলাকালেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য তথ্য পায় যে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্প এবং তার ব্যবহৃত বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলার পরিকল্পনা করছে। এরপরই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস প্রেসিডেন্টকে বিমান পরিবর্তনের জোরালো পরামর্শ দেয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প তুরস্কের আঙ্কারায় গিয়েছিলেন কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে। তবে ওই বিমানটিতে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তখনও সংযুক্ত করা হয়নি।

গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর ট্রাম্প দেশে ফেরার জন্য তার পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য নির্দিষ্ট কোনো বিমান নয়; বরং ট্রাম্প যে বিমানেই থাকুন না কেন, তাকে লক্ষ্য করেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা মার্কিন নেতাকে—অর্থাৎ আমাকে—দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চায়। তাদের প্রতিটি হিটলিস্টেই আমার নাম রয়েছে। এখন পর্যন্ত হয়তো আমি ভাগ্যবান ছিলাম, কিন্তু সেই ভাগ্য সব সময় নাও থাকতে পারে।”

তবে প্রথমদিকে বিমান পরিবর্তনের কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ব্রিটেনে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নতুন বিমানটি দেখানোর সুযোগ করে দিতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও পরে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, মূল কারণ ছিল নিরাপত্তা হুমকি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত সীমিত পরিসরে রাখা হয়েছিল। এমনকি মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষ সদস্যদেরও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। হোয়াইট হাউসও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, একই সময়ে ইসরায়েলও ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কিছু গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল। তবে মার্কিন প্রশাসনের একটি অংশ সেই তথ্যকে সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করে। কর্মকর্তাদের মতে, তুরস্কে বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পেছনে যে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ছিল, সেটি ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য থেকে আলাদা।

নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানায়, কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বিমানটির নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল মার্কিন সরকার। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জারি করা আইনি নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়।

সম্প্রতি ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, নতুন বিমানে এখনো পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংযুক্ত হয়নি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা আধুনিকায়নের জন্য আগামী শরতে প্রায় এক মাস বিমানটি সাময়িকভাবে সেবার বাইরে রাখা হবে।

মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারান বলেছেন, বর্তমানে প্রেসিডেন্টসহ তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকির মাত্রা ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সূত্র: The New York Times

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here