Home সর্বশেষ সংবাদ ইরানের ইউরেনিয়াম উদ্ধারে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

ইরানের ইউরেনিয়াম উদ্ধারে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

0
9
ইরানের ইউরেনিয়াম উদ্ধারে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মার্কিন সংবাদমাধ্যম New York Post-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে একটি জটিল বিশেষ সামরিক স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। তবে এ পরিকল্পনার বিষয়ে মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে বিশেষ বাহিনীর সমন্বয়ে একটি জটিল স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম New York Post

শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এই অভিযানে ইস্ফাহান, ফোর্ডো এবং নাতাঞ্জের নিকটবর্তী ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’-এর মতো উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে বিশেষ বাহিনীর পাশাপাশি হাজার হাজার স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। তাদের কাজ হবে লক্ষ্যস্থলের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা, মাইন ও বিস্ফোরকের ঝুঁকি মোকাবিলা করা এবং সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুলে বিশেষ অভিযানের পথ তৈরি করা। এরপর একটি ছোট বিশেষ অপারেশন দল ইউরেনিয়াম উদ্ধারের মূল কাজ সম্পন্ন করবে।

The Wall Street Journal-এর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান নাতাঞ্জ থেকে শত শত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে পাশের পাহাড়ের নিচে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় স্থানান্তর করেছে বলে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা।

সম্ভাব্য অভিযানে মার্কিন নেভি সিল টিম–৬-এর Silver Squadron, সেনাবাহিনীর ২য় রেঞ্জার ব্যাটালিয়ন এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ২১তম অর্ডন্যান্স কোম্পানি অংশ নিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার আগে ইরানের কাছে ২০ হাজার পাউন্ডের বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। এর একটি অংশ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ, যা অস্ত্র-মানের ইউরেনিয়ামের কাছাকাছি পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়, যদিও তা সরাসরি অস্ত্র-মানের নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পেন্টাগনের ধারণা অনুযায়ী পূর্ববর্তী বিমান হামলার পরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়াম ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় অক্ষত থাকতে পারে। এ কারণে কেবল বিমান হামলার পরিবর্তে বিশেষ স্থল অভিযানের বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে।

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড গোল্ডবার্গ বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দ্রুত নিরাপত্তা বলয় গঠন, মাইন ও বিস্ফোরক মোকাবিলা এবং পুরো দলকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। তার ভাষ্য, ইরান এখন সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকায় আকস্মিক অভিযানের সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক Center for Strategic and International Studies (CSIS)-এর কর্মকর্তা জোসেফ রজার্সের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অচল হয়ে পড়লে পারমাণবিক উপাদান নিয়ন্ত্রণে সামরিক অভিযান একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, New York Post-এর এই প্রতিবেদনে বর্ণিত পরিকল্পনার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সূত্রভিত্তিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: New York Post, The Wall Street Journal।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here