Home সর্বশেষ সংবাদ ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ছে না এনসিপি, জোট ভাঙনের গুঞ্জনকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলছে দলটি

১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ছে না এনসিপি, জোট ভাঙনের গুঞ্জনকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলছে দলটি

0
6
১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ছে না এনসিপি, জোট ভাঙনের গুঞ্জনকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলছে দলটি

ন্যাশনাল নিউজ ডেস্কবিডি ভিউজ বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে দলটি। এনসিপির নেতারা বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে গঠিত এই ঐক্য অব্যাহত থাকবে।

সম্প্রতি খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের দূরত্ব তৈরি হওয়ার খবর প্রকাশের পর এনসিপিও জোট ছাড়ছে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে। তবে জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে এ ধরনের খবরকে ‘গুজব’ ও ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। নিয়মিত জোটের বৈঠক হচ্ছে এবং জোট ছাড়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তাদের দাবি, জোটের শরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি এবং বিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য দুর্বল করতেই একটি মহল এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে।

এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে যখন জোটগত কর্মসূচি চলছে, তখন ঐক্য আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে সম্মিলিতভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়াই বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর কৌশল।

জোট ছাড়ার খবর মিথ্যা: জামায়াত

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এনসিপির জোট ছাড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তার দাবি, এর পেছনে সরকারের ইন্ধন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে আছি এবং এ ধরনের প্রচারণায় জোটের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না।”

৫ আগস্ট পল্টনে সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর পল্টনে বড় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সমাবেশ থেকেই জোটের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

বৈঠকে এনসিপির প্রতিনিধি হিসেবে দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এই মুহূর্তে জোট ছাড়ার কোনো চিন্তাভাবনা এনসিপির নেই।

নিজস্ব সংগঠন শক্তিশালী করছে এনসিপি

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের কয়েকজন নেতা জানান, দলটি ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবেই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে চায়।

এর অংশ হিসেবে দেশব্যাপী জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি পরিচালনা করছে দলটি, যা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে।

দলীয় নেতারা জানান, নিজস্ব সাংগঠনিক বিস্তার এবং বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে জোটগত আন্দোলন—দুই বিষয়কে সমন্বয় করেই এগোতে চায় এনসিপি।

নির্বাচন নিয়ে জোটে আলোচনা

এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে সমঝোতা ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপি পৃথক প্রার্থী ঘোষণা করলেও জোটগতভাবে নির্বাচন করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নেতারা।

এনসিপির কয়েকজন নেতা জানান, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মত রয়েছে।

তবে জাতীয় রাজনৈতিক আবহ বিবেচনায় বড় শহরগুলোতে জোটগত সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তারা জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here