আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক।বিডি ভিউজ বাংলা
গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ জানিয়েছে, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হওয়ার পরই গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে।
ইসরাইলের আপত্তির পর বোর্ড অব পিসের এই অবস্থান সামনে আসে। এর আগে গত সপ্তাহে হামাসের সঙ্গে একটি নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল সংস্থাটি।
চুক্তি ঘোষণার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এটি ‘সুনির্দিষ্টভাবে সাজানো কয়েকটি ধাপে’ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, “নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে।”
চুক্তির নথিতে বলা হয়েছিল, গাজায় ইসরাইলি হামলার অবসান ঘটবে এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধীরে ধীরে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
এতে গত বছর মিশরের শারম আল-শেখে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশ, আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ।
হামাসের শর্ত
হামাস জানিয়েছে, চুক্তির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইসরাইল তাদের প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করছে কি না, তার ওপর।
তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
ইসরাইলের অবস্থান
ইসরাইল জানিয়েছে, হামাস সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাহিনী গাজার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে সরে যাবে না।
বোর্ড অব পিসের পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকের পর ম্লাদেনভ জানান, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পরই ইসরাইলি বাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে সরে যাবে।
তিনি বলেন, এই শর্ত হালকা অস্ত্র, ভারী অস্ত্র এবং গাজার সুড়ঙ্গ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও হামাসের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য এখনো স্পষ্ট।
বিশেষ করে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে মতবিরোধই বর্তমানে চুক্তি বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই দুই ইস্যুর সমাধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।












