নিজস্ব প্রতিবেদক | বিডি ভিউজ বাংলা
বাংলাদেশের সংবিধানে আবারও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান ফিরে আসছে। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে করা আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ পৃথক তিনটি আপিল খারিজ করে দেন। আদালতের এই রায়ের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে “ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ রুদ্ধ হলো” এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পঞ্চদশ সংশোধনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল
২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক রিট দায়ের হলে হাইকোর্ট ২০২৪ সালের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাতিলসংক্রান্ত ধারাগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার সেই রায় বহাল রাখে।
সংসদের ওপর থাকছে বাকি সিদ্ধান্ত
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আপিল বিভাগের রায়ের ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, গণভোট এবং ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ-সংক্রান্ত হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা অন্যান্য পরিবর্তন বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জাতীয় সংসদের থাকবে।
সংবিধান সংস্কারের ইঙ্গিত
রায়ের পর আইনমন্ত্রী জানান, আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি করে সরকার সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, সংবিধান একটি “জীবন্ত দলিল” (Living Document)। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধানে পরিবর্তন আনা স্বাভাবিক এবং কোনো সংবিধানই অপরিবর্তনীয় নয়। অন্যদিকে, রিটকারী সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সংসদের এখতিয়ার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, আপিল বিভাগের এই রায় বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচন, সংবিধান সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হতে পারে।








